• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন
Headline
পত্রিকা: 'হুথি-সৌদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বহুমুখী সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ' ৯৯% প্রকল্প সময়মতো হস্তান্তর করেছে শেলটেক দুই মাসের জন্য রাস্তা খনন, বছরজুড়ে পরিখা—আর কত? এই শতাব্দীতে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ১৭টি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি বার্গার, পিজ্জা বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেতে আমাদের এত ভালো লাগে কেন চকবাজারে আগুন, সরু গলি ও পানি স্বল্পতায় বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের উপাচার্য এক গিটারেই সিডনির শ্রোতাদের মন জয় করলেন নন্দিতা–শুভেন্দু সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় আহত বাংলাদেশিরা কে কোন হাসপাতালে প্রত্যেকের অধিকার-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব

অধ্যক্ষ অহিদুল সহ নীলফামারীর এক মাদ্রাসায় ২৩ শিক্ষক কর্মচারি জাল ও অবৈধ :

Reporter Name / ৩২ Time View
Update : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

পাভেল ইমরান, বিশেষ প্রতিবেদক :

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ? নাকি আলিফ লায়লার ডা/কা/ত সর্দার কেহেরমান? বোঝা খুব কষ্টকর। এমনই এক উত্তর না মেলা প্রশ্নের সম্মুখীন দেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা।অভিযোগ আসে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ” বড়ভিটা আফজালুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ” ২৩ জল জাল সনদের ভুয়া শিক্ষক কর্মচারী কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে অবৈধ নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত চাকুরী করে আসছে। অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে জালিয়াতির ভয়ংকর তথ্য। ১.অধ্যক্ষ মো:অহিদুল ইসলাম যার ইনডেক্স নাম্বার ৩৮৪৫৬৩, তার নিয়োগটা অবৈধ। ডিজি প্রতিনিধি ও রেজুলেশন ভুয়া। তার আলিম ও ফাজিল তৃতীয় বিভাগ।অন্যের সনদ প্রদর্শন করে করে তার বেতন এমপিও হয় ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। অধ্যক্ষ পদে এর পূর্বে তার কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। সে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করার পরেই মাদ্রাসাটাকে করে ফেলে তার পারিবারিক সম্পত্তির মত। ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে তার পরিবারের ১১- ১২ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয় তার মাদ্রাসায়। তার পরিবারের মধ্যে জাল সনদ এবং অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে এই মাদ্রাসার চাকরি করছে ১.মো:সাইফুল ইসলাম প্রভাষক আইসিটি, সে তার মেয়ের স্বামী। জামাতা সাইফুল ইসলামের NTRCA সনদ অনিয়োগ অবৈধ এবং জাল । এপ্রিল ২০২৩ সালে তার MPO হয়, তার ইনডেক্স M ০০৩৬৭১৯। এই মর্মে উপজেলা শিক্ষা মাধ্যমিক অফিসার এটিএম নুরুল আমিন শাহ ০৫/০৪/২০২৪ সালে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২.মো:মোজাহিদুল ইসলাম, সহকারী গ্রন্থাগার , সে অধ্যক্ষ অহিদুলের বড় ছেলে। তার লাইব্রেরিয়ান সার্টিফিকেট এবং NTRCA সনদ ভুয়া। সে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এর মূল হোতা। বর্তমানেও তার বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলা চলমান। তার বেতন এমপিও হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে। তার ইনডেক্স নাম্বার M০০১৭৫২৫। ৩. ইংরেজি প্রভাষক মোঃ রেজাউল করিম রেজা অধ্যক্ষ অহিদুলের শ্যলকের ছেলে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এনটিআরসিএ সনদ ও নিয়োগ সবই ভুয়া।তার বিভিন্ন কাগজপত্রে তার জন্ম তারিখে অসংগতি। তার বেতন এমপিও হয় ২০২৩ সালের মে মাসে। তার ইনডেক্স নাম্বার ০০৩৫৮৯১ (৪.) বাংলা প্রভাষক জেসমিন আক্তার তার শ্যালকের মেয়ে তার এনটিআরসিএ সনদ ও নিয়োগ ভুয়া এবং জাল। তার বেতন এমপিও হয় ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে। তার ইনডেক্স নাম্বার ০০৩১৯৮৯ (৫) অধ্যক্ষ অহিদুলের ভাতিজা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম। সহকারী মৌলভী পদে নিয়োগ পেয়েছে এই মাদ্রাসায়। তার এনটিআরসিএ সনদ ও নিয়োগ অবৈধ। তার জন্ম তারিখেও আছে অসংগতি। তার বেতন এমপিও হয় ২০২২ সালের মে মাসে। তার ইনডেক্স নাম্বার ০০৩১৬০৯। (৬) অধ্যক্ষ অহিদুলের আরেক শালিকা আজমিন নাহার সহকারি মৌলভী পদে ভুয়া এনটিআরসিএ সনদে অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছে এই মাদ্রাসায়। তার বেতন এমপিও হয়েছে ২০২০ সালে। তার ইনডেক্স নাম্বার ০০৮০২। (৭) অধ্যক্ষ ওহিদুলের শ্যালকের আরেক ছেলে নুরুন্নবী ইসলাম অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন অফিস সহকারি হিসাব পদে। ৫-৮-২০২৪ সালে লিখিত অভিযোগ করেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এটিএম নুরুল আমিন শাহ। তার বেতন এমপিও হয় 2025 সালের মার্চ মাসে। তার ইনডেক্স নাম্বার ০০৬২৪৪৬. (৮) অধ্যক্ষের ফুপাতো ভাই ফেরদৌস আলম ভুয়া এনটিআরসিএ সনদ ও অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন ইবি জুনিয়র পদে। তার বেতন এমপিও হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে, তার ইনডেক্স নাম্বার ০০১৭৮৯৭. (৯) শ্যালকের আরেক ছেলে মোহাম্মদ হানিফুল ইসলাম ওয়াক কাগজপত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে পেয়েছেন পিয়ন পদে চাকরি। তার ইনডেক্স নাম্বার ০০১৭৮৯৮. (১০) আরবি প্রভাষক মোঃ হুমায়ুন কবির , মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ। তার এনটিআরসিএ সনদ এবং নিয়োগ সম্পন্ন অবৈধ এবং জাল। ১১.আরবি প্রভাষক সিরাজউদ্দৌলা , ১২. আরবি প্রভাষক মোঃ মোখলেছুর রহমান ১৩.সরকারি মৌলভী খাদিজা আক্তার ১৪. ল্যাব এসিস্ট্যান্ট আশরাফুল ইসলাম ১৫.সহকারী শিক্ষক রওশন আলী ১৬.কম্পিউটার শিক্ষক ফৌজিয়া নাহিদ ১৮.এবি শিক্ষক আমেনা বেগম ১৯.সামাজিক বিজ্ঞান প্রভাষক প্রতিমা রানি, এদের সবারই এনটিআরসিএ সনদ জাল এবং নিয়োগ অবৈধ। সামাজিক বিজ্ঞান প্রভাষক প্রতিমা রানী সে এইচএসসি পাশ করেই হয়ে গেছে প্রভাষক। আয়ার নার্গিস আক্তারও নাই জাল নিয়োগের বাইরে। অভিযোগ আছে প্রভাষক পদের নিয়োগ ও সব মহল ম্যানেজ করে বেতন এমপিও করার নিশ্চয়তা দিয়ে প্রত্যেক জনের কাছ থেকে অহিদুল ঘুষ নিয়েছে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা । সহকারী শিক্ষক ও সহকারী মৌলভীর জন্য ঘুষ নেয়া হয়েছে ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা। যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা ছাড়াও আরো অসংখ্য প্রার্থীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়েছে অধ্যক্ষ অহিদুল। বন্যপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে চাকুরী না দিয়ে নিজের পরিবারের লোকদের চাকরি দিয়েছে এই অধ্যক্ষ। প্রভিটা আপ জারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার দুর্ধর্ষ ডাকাত অধ্যক্ষ ও অহিদুলের ব্যাপারে ৭ সেপ্টেম্বর২০২৬ তারিখে দৈনিক যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলেও তার ভুয়া সনদে নিয়োগ বাণিজ্য এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে হয়েছে বিশেষ প্রতিবেদন। অধ্যক্ষ অহিদুল সহ এই মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন শিক্ষক আওয়ামী রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন । রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তারা এই কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছে । এই বিষয়ে অধ্যক্ষ ও অহিদুল এর সাথে কথা বলতে চাইলে তার সবগুলো মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা