• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
Headline
অভিনন্দন, বিজ্ঞানচিন্তা! হোপের সেঞ্চুরির পর পলের ফাইফার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার ভারতের সদস্যদেশগুলোকে ৩০৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব ফিফার, পাবে বাংলাদেশও রোডস: সমুদ্র, ইতিহাস আর কিছু জীবন্ত স্মৃতি আয়াসের জামিন শুনানিতে বিচারকের সামনেই আইনজীবীদের হাতাহাতি সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না কেন, কী বলছেন ব্যবসায়ীরা অ্যান কারসনের নোবেল বিজয়: ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সমকালীন রূপকার বাংলাদেশে ৩৫ বছরের পরে আইনজীবী হতে বাধা কেন? নেছারাবাদে অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর উপায়ে আইসক্রিম উৎপাদন জরিমানা ২০ হাজার টাকা ও কারখানা বন্ধের নির্দেশ । আবাসনে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছি আমরা

অবশেষে বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো :

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা প্রবাসী স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের অব্যাহতভাবে মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃতের বোন মিতারা খানম বাদি হয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় পাঁচজনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনা ও সহায়তা করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিরা হলো-বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রী মৃত ঝুমুর খানম সেতুর প্রবাসী স্বামী গৌরনদীর চরগাধাতলী গ্রামের বাসিন্দা মৃত কাজী হারুন-অর রশিদের কুয়েত প্রবাসী ছেলে কাজী সাহাবুদ্দিন, তার মা রুনু বেগম, বোন শারমিন কাজী, নাজমিন কাজী ও তার স্বামী সাইদুল হাওলাদার।

আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের মো. আব্দুল করিম খানের মেয়ে মিতারা খানমের দায়ের করা এজাহারে জানা গেছে, বিগত পাঁচবছর পূর্বে কাজী সাহাবুদ্দিনের সাথে সামাজিকভাবে ঝুমুর খানম সেতুর বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাইফা নামের চার বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

সূত্রমতে, বিয়ের পর থেকে আসামিরা ঝুমুর খানম সেতুকে কারণে-অকারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলো। এরইমধ্যে গত তিনবছর পূর্বে কাজী সাহাবুদ্দিন কর্মের সুবাদে কুয়েত গমন করেন। পরবর্তী সময়ে সাহাবুদ্দিনের নির্দেশে তার মা, বোন ও বোনজামাতা ঝুমুর খানমের ওপর মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে তাদের নির্যাতন সইতে না পেরে গত ডিসেম্বর মাসে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ঝুমুর খানম তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ঘটনার দিন গত ৪ অক্টোবর দিবাগত রাত এগারোটার দিকে প্রবাসী সাহাবুদ্দিন ভিডিও কল দিয়ে ঝুমুর খানম সেতুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিষপান করে আত্মহত্যার কথা বলে। ফলে স্বামীর অব্যাহত এ মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে ঝুমুর খানম তার বাবার ঘরে থাকা ঘাস মারার ওষুধ (বিষ) পান করে।

মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ও পরে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ৫ অক্টোবর দুপুরে ঝুমুর খানম সেতুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝুমুরের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে মৃতের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে ঝুমুর খানম সেতুকে দাফন করা হয়েছে।

ঝুমুরের বাবা করিম খান জানিয়েছেন, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেয়া, পাঁচশ’ বরযাত্রীকে না আনাসহ ঝুমুর দেখতে সুন্দরী না হওয়ার অজুহাতসহ বিদেশে যাওয়ার সময় সাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না দেয়ার কারণে থেকে সাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো।

কান্নাজড়িত কন্ঠে করিম খান বলেন, এভাবে যেন আর কোন মেয়েকে তার বাবা-মায়ের অকালে হারাতে না হয়। সেজন্য আমি আমার মেয়ে ঝুমুর খানম সেতুর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা