সুমন খান:
রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগে অপরাধ দমনে জোরালো অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। মাদক, চুরি, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে একদিনেই ৭৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তেজগাঁও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (০৩ মে) বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সন্দেহভাজন ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের লক্ষ্য করে একাধিক টিম একযোগে কাজ করে। এতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করা হয়।গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, মেহেদী হাসান জুয়েল (২৮), মোঃ মাহিম (২৫), মোঃ তারেক (৩৫), মোঃ শাহিন (২৮), রিপন (৩৫), মোঃ রমজান (২৬), হোসাইন মোহাম্মদ (৩০), মোঃ রিয়াজ (২২), মোঃ রবিউল (২২) এবং মোঃ মিলন মিয়া (২৪)।পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, কেউ চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে সক্রিয়, আবার কেউ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল।অভিযানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তেজগাঁও থানায় ১৫ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় ১০ জন, হাতিরঝিল থানায় ৯ জন, আদাবর থানায় ৯ জন, মোহাম্মদপুর থানায় সর্বোচ্চ ২১ জন এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসব এলাকায় অপরাধের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে অপরাধ দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। অপরাধীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও বড় চক্র শনাক্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অনেকেই মনে করেন এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ফল পেতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগও জরুরি।তেজগাঁও বিভাগের এই অভিযান স্পষ্ট করে যে, রাজধানীতে অপরাধ দমনে পুলিশ এখন আরও সক্রিয় ও কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। তবে শুধু গ্রেফতারই নয়, অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়াও সময়ের দাবি।