
সুমন খান:
রাজধানীর মিরপুর শাহআলী থানাধীন গুদারাঘাট বটতলা এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে ব্লক-এইচ, রোড-১ এলাকায় ‘মায়ের দোয়া গোস্ত বিতান’ দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন মোঃ জাকির হোসেন (৪০) ও তার সহযোগী মোঃ সবুজ আহম্মেদ বাবু (৩৩)।ঘটনার পর আহত জাকির হোসেনের ভাই মোঃ আরিফ হাওলাদার (৩৪) বাদী হয়ে শাহআলী থানা-এ একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।ওঁৎ পেতে হামলার অভিযোগ এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন ও সবুজ আহম্মেদ বাবু ঘটনাস্থল দিয়ে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে। হামলাকারীরা লাঠি, রামদা ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বাদীর অভিযোগ, প্রধান আসামি মোঃ আনোয়ার (৪০) রামদা দিয়ে জাকির হোসেনের মাথায় কোপ মারেন। এতে তার মাথার ডান পাশে গভীর ক্ষত ও প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অপর আসামি মোঃ জহিরুল ইসলাম পান্না (৪৮), লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে ,জাকিরের বাম হাঁটুতে গুরুতর হাড়ভাঙা জখম হয়।এ সময় হামলাকারীরা আহত সবুজ আহম্মেদ বাবুর পকেট থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন (আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা) ও মানিব্যাগে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাকির হোসেনের পকেটে থাকা ব্যবসার ৪০ হাজার টাকাও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।আহতদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে হামলাকারীরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জাকির হোসেনের মাথায় গভীর ক্ষত ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে।বাদীপক্ষের দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও স্থানীয় আধিপত্য কেন্দ্রিক বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাটি ‘হত্যাচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।শাহআলী থানা সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর গুদারাঘাট এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকাশ্যে এ ধরনের সশস্ত্র হামলা জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও এলাকায় পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।ঘটনার তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply