
সুমন খান :
ঢাকার ধামরাইয়ে সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী সানজিদা আক্তার প্রিয়াকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর নং-২১ (তারিখ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫) সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রধান আসামী মোঃ আঃ রহমান (২৫)–কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭/৩০ ধারায় দায়ের হওয়া এই মামলায় তদন্তকারী সংস্থা বলছে—এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত অপহরণ; যার সঙ্গে স্থানীয় আরও কয়েকজন সহযোগীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।উত্যক্ত থেকে অপহরণ,ক্রমেই বাড়ছিল ভয়,পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধামরাই থানাধীন বেলীশ্বর মোহনীমহন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার প্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাসকারী মোঃ আঃ রহমানের দ্বারা উত্যক্তের শিকার হয়ে আসছিল। স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হতো।ঘটনাটি ভিকটিমের পরিবার একাধিকবার আসামীর পিতা ইয়ার হোসেন ও আত্মীয়দের জানালেও উত্যক্তের মাত্রা আরও বাড়তে থাকে।
স্কুলে যাওয়ার পথে পরিকল্পিত অপহরণ,৩০ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ৮টার দিকে নিজের বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার সময় বেলীশ্বর মোহনীমহন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাকা সড়কে পৌঁছালে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী ওৎ পেতে থাকা প্রধান আসামী আঃ রহমান ও তার সহযোগীরা প্রিয়াকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে একটি কালো রংয়ের অজ্ঞাত মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
রাজশাহীতে নাটকীয় অভিযান: ভিকটিম উদ্ধার,মামলাটি তদন্তকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ একাধিক অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ নভেম্বর ২০২৫ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে পাকা রাস্তা থেকে প্রধান আসামী মোঃ আঃ রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে তার হেফাজত থেকে ভিকটিম সানজিদা আক্তার প্রিয়াকে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ।পুলিশ জানায়, আসামী অপহরণের ঘটনা অস্বীকার করলেও তদন্তে তার সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভিকটিমের বর্ণনা ও উদ্ধার হওয়া তথ্য-উপাত্ত ইতোমধ্যে মামলার অগ্রগতি আরও স্পষ্ট করেছে।
আদালতে প্রতিবেদন: জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্নের আশঙ্কা,তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর জিয়াউর রহমান,আদালতে,দাখিল,করা,প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন,গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি এজাহারের ১ নম্বর নামীয় আসামী।তার বিরুদ্ধে,সাক্ষ্য,প্রমাণ,শক্তিশালী,মামলার,অন্যান্য,আসামীদের সহায়তায় অপহরণ সংঘটিত হয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য মিলেছে।মামলার তদন্ত এখনো চলমান; আসামী জামিন পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামীকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।স্থানীয়দের দাবি,দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি,প্রয়োজন,ঘটনার পর বেলীশ্বর এলাকা জুড়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলছাত্রীদের উত্যক্তের অভিযোগ পাওয়া গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ ছিল না। এই ঘটনার পর তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনার সাহস না পায়।প্রতিদিনের জীবনে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এখন একটি বড় প্রশ্ন। ধামরাইয়ের এ অপহরণ ঘটনা সেই প্রশ্নকে আবারও সামনে এনেছে। প্রধান আসামী গ্রেপ্তার ও ভিকটিম উদ্ধার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও পুরো চক্রকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনাই এখন তদন্তকারীদের মূল চ্যালেঞ্জ।
Leave a Reply