সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
Title :
ময়মনসিংহে ১,০০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার এক রমজান মাসে স্কুল বন্ধ: হাইকোর্টের নির্দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একাধিক মুখ মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: নতুন সরকারের কঠোর বার্তা আসছে, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান বাগেরহাট-১ আসনে পরাজিত বিএনপির প্রার্থী পুনরায় ভোট গণনার দাবি কোনাবাড়ী আমবাগ নসের মার্কেটে ঝুটের গুদামে অগ্নিকাণ্ড, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ লাইন্সে প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত বরিশালে উন্নয়নের বহুমাত্রিক অগ্রযাত্রা: জনসেবায় আলোচিত প্রশাসক আয়মান রাহাত সাংবাদিকরা কারো অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন করাটা আমি এটিকে মূলত পেশাগত শালীনতা ও প্রেক্ষাপটনির্ভর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখি। হাতিয়ার ঘটনা: আমাদের স্পষ্ট অবস্থান

শের-ই-বাংলার উত্তরাধিকারের পারিবারিক বিরোধ গড়ালো ভোটের মাঠে

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১৩ Time View

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি:

অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী শের-ই-বাংলাএকে ফজলুল হকের পারিবারিক বিরোধ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এলো। বরিশাল- ২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে তার নাতনীদের একপক্ষ বিএনপির এবং অপরপক্ষ জামায়াতের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন। তারা প্রচারে পারিবরিক বিরোধ নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করছেন। উপ মহাদেশের মহান নেতা একে ফজলুল হকের উত্তরসুরীদের এমন আচরন নিয়ে এলাকায় মুখরোচক আলোচনা হচ্ছে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, একে ফজলুল হকের একমাত্র সন্তান সাবেক মন্ত্রী মরহুম এ.কে ফায়জুল হকের দুই স্ত্রী ছিলো। তিনি তৎকালীন বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠী আসনে ১৯৭৯ সালে বিএনপির এবং ১৯৭০ ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। ১৯৮১ সালে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রী সভায় গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ফায়জুল হক। ২০০৭ সালের ১৯ জুলাই তিনি মারা যান।
দাদা ও পিতার উত্তরাধীকার সুত্রে আওয়ামীলীগে সক্রিয় ছিলেন ফায়জুল হকের প্রথম স্ত্রী মরিয়ম বেগমের ছেলে একে ফাইয়াজুল হক রাজু। তিনি একাধিক নির্বাচনে বরিশাল-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যশী ছিলেন। বঞ্চিত হয়ে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারীর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রাতিদ্বন্দ্বিতা করেন। একই নির্বাচনে মরিয়মের মেয়ে একে রিপা হক ঢাকা- ১১আসনে ইসলামী ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন। তিনি দাদা ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পাটির চেয়ারম্যান। বিভিন্ন সুত্র নিশ্চিত করেছে, রাজুর স্ত্রী ও ছেলে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন।
অন্যদিকে ফায়জুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী রোকসনা হকের সন্তানরা এ যাবৎকাল রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। রোকসানার মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এ.কে ফ্লোরা হক আওয়ামীলীগের পতনের পর জাতীয় নাগরিকপার্টির (এনসিপি) রাজনীতিতে সক্রিয় হন। গত সপ্তাহে তিনি বরিশাল-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নানের দুই উপজেলায় একাধিক উঠান বৈঠকে বক্তৃতা ও দাড়িপাল্লায় ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন।
বক্তৃতায় সৎভাই বোনদের ইঙ্গিত করে ২০ বছর নির্যাতিত থাকার অভিযোগ করেন ফ্লোরা। চাখারে দাদা শের-ই-বাংলার স্মৃতিবিজারিত বিশ্রামাগারের(ডাকবাংলো) তালা ভেঙ্গে সেখানে ওঠেন। জানা গেছে, ফ্লোরার আরেক বোন একে ফারসিনা হক লিরার স্বামী আকতারুল আলম ফারুক ময়মনসিংহ ৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। লিরা সেখানে স্বামীর জন্য ধানের শীষের ভোট চাইছেন।
এমন পরিস্থিতিতে রোববার বরিশাল- ২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর পক্ষে নেমেছেন রাজুর বোন একে রিপা হক, স্ত্রী সালমা ফাইয়াজ ও ছেলে একে ফারদিন ফাইয়াজ। তারা বানারীপাড়া হাইস্কুল মাঠে ধানের শীষের সমাবেশে বক্তৃতা করেন।
এ প্রসঙ্গে রিপা হক বলেন, আমি আমার দাদার দল কৃষক শ্রমিক পাটির চেয়ারম্যান। বরিশাল- ২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সান্টু আমার প্রয়াত বাবার বন্ধু। সে হিসাবে আমরা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি। সৎ বোন ফ্লোরা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে থাকা প্রসঙ্গে বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের সম্পদ ঠকিয়েছে। তারা শের-ই-বাংলার সম্পদ বিক্রি করে তার স্মৃতি ধ্বংস করেছে। এখন চাখারে শের-ই-বাংলার বিশ্রামাগারের তালা ভেঙ্গে দখল করেছে। শের-ই-বাংলার উত্তারারিধকার দাবী করার অধিকার তাদের নেই।
অন্যদিকে একে ফ্লোরা হক বলেন, আমার বাবা ফায়জুল হক আমাদের ৫ ভাই-বোনকে স^ীকৃতি দিয়ে গেছেন। তার অন্য কোন সন্তান আছে কিনা আমার জানা নেই। গত ২০ বছর যাবত স্বৈরাচারের সহযোগীতায় একটি পক্ষ আমার দাদার স্মৃতি ধ্বংস করেছে। এখন স্বৈরাচার মুক্ত দেশে আমি সত্যের পক্ষে নেমেছি। বিশ্রামাগারের চাবি না থাকায় আমাকে তালা ভাঙ্গতে হয়। দাড়িপাল্লার প্রার্থী সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি নন দাবী করে ফ্লোরা বলেন, তার পক্ষে থাকাটা দাদা-বাবার আদশর্ পরীপস্থি হয়না। ফ্লোরা জানান তিনি এনসিপির উপদেস্টা ও নির্বাচনে অ্যাম্বাসেডর হিসাবে কাজ করছেন।
পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি রাজনৈতিক ময়দানে আনায় ক্ষোভপ্রকাশ করে শের-ই-বাংলা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুর নবী বলেন, শের-ই-বাংলা বাংলাদেশের সকল মানুষের। তিনি অসাম্প্রদায়িতক চেতনায় বিশ^াস করতেন। তার নাতনী দীর্ঘ বছর আমেরিকা প্রবাসী ফ্লোরা একটি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলের পক্ষে নেমে শের-ই-বাংলাকে ব্যবহার করছেন। পারিবারিক বিষয়গুলো প্রকাশে এনে শের-ই-বাংলাকে হেয় করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025
Design By Raytahost
dailydhakaralo