শাহিন আখন প্রতিনিধি বোরহানউদ্দিন:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মাদকের বিস্তার এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এক সময়ের শান্ত এই জনপদ এখন ‘মাদকের স্বর্গরাজ্যে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। হাত বাড়ালেই মিলছে মরণঘাতী সব মাদকদ্রব্য। এর বিষাক্ত ছোবলে ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, আর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন অলিগলি, চায়ের দোকান এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেও এখন মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, আগে মাদক বিক্রি হতো আড়ালে-আবডালে, কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রেই তা অনেকটা প্রকাশ্য। ইয়াবা, ফেনসিডিল এবং বিভিন্ন নেশাজাতীয় ইনজেকশন ও সিরাপ সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর থেকে শুরু করে শ্রমজীবী যুবকরাও এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ**মাদকের নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অপরাধের পথে পা বাড়াচ্ছে আসক্তরা। গত কয়েক মাসে বোরহানউদ্দিনের বিভিন্ন ইউনিয়নে চুরি ও ছোটখাটো ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে।
গৃহস্থালির সরঞ্জাম চুরি:গভীর রাতে বসতবাড়ি থেকে মোবাইল, গবাদি পশু ও টিউবওয়েল চুরির ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক।
ছিনতাইয়ের আতঙ্ক: সন্ধ্যার পর নির্জন রাস্তায় পথচারীদের আটকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মিলছে অহরহ।
স্থানীয় এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, *”ছেলেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি। মাদক এখন ঘরের দরজায় চলে এসেছে। অথচ এটি দেখার যেন কেউ নেই। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:এলাকাবাসীর দাবি, মাঝেমধ্যে মাদকবিরোধী অভিযান চললেও মূল হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি মাদক কারবারিদের শক্ত হাতে দমনের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বোরহানউদ্দিনের সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, শুধুমাত্র পুলিশি অভিযান দিয়ে এই সংকট দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন, পারিবারিক সচেতনতা এবং তরুণদের সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করা। মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি আপনার জীবন ও পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক থেকে দূরে থাকুন, সুস্থ সমাজ গড়তে সহায়তা করুন।