নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পিঠা উৎসবে “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন”-এর ব্যানারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ফ্রি শরবত ও পানি বিতরণকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী আলম সরকার দাবি করেন, প্রথম দুইদিন ফ্রি শরবত ও পানি বিতরণের কার্যক্রম চললেও পরবর্তীতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়—“এই ব্যানারে অনুদান আসবে না, মানুষ দেবে না। শুধু একদিন ব্যানার লাগিয়ে ছবি তুলে রাখো, পরে অন্য নামে কার্যক্রম চালানো হবে।”
পরবর্তীতে “বাংলাদেশ ন্যাশনালিজম কালচারাল ফাউন্ডেশন” নামে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত রেজিস্ট্রেশন নম্বর S10657 ব্যবহার করে কার্যক্রম চালানোর কথা বলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় সংগঠনের মহাসচিব মো: হুমায়ুন কবির বেপারীর নাম উল্লেখ করে আলম সরকার বলেন, অনুদান আসার পর কিছুদিন পানি বিতরণ চালিয়ে পরে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আলম সরকারের ভাষ্যমতে, তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে অফিসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তিনি দাবি করেন, “জিয়া পরিবারকে নিয়ে আমি এভাবে করতে পারবো না। শিল্পকলা একাডেমির মাঠে সবাই দেখছে, সাংবাদিকরাও অপেক্ষা করছিলেন।”
এ সময় নিজের বকেয়া বেতনের দাবিও তোলেন আলম সরকার। তিনি জানান, দীর্ঘদিন আইটিভিতে কাজ করলেও তার প্রাপ্য বেতন পরিশোধ করা হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে বলা হয়—“টাকা আমি দেব না, টাকা দেবে রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী,” যিনি বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, জাসাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং আইটিভির উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, পুরো বিষয়টি প্রকাশ করলে “দলের বদনাম হবে” উল্লেখ করে তাকে নীরব থাকার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়। আলম সরকার দাবি করেন, “আমাকে বলা হয়েছিল যদি বিষয়টি কাউকে জানাই তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে দেশ-বিদেশ থেকে অনুদান সংগ্রহ ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে, যার সুষ্ঠু তদন্ত এখনো হয়নি। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের একত্র করে নানা ব্যানারে অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে।
আলম সরকারের অভিযোগ, “আমাকে বলা হয়েছে আমার কোনো নিয়োগপত্র নেই, তাই আমি যতই বলি মানুষ বিশ্বাস করবে না। এরপর থেকেই আমার ওপর বিভিন্নভাবে চাপ ও ঝামেলা শুরু হয়।”
ঘটনার দিন শিল্পকলা একাডেমিতে একাধিক সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। কিন্তু পরবর্তীতে পুরো বিষয়টি গোপন রাখা হয় এবং এখনো তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের কাছে আলম সরকারের আহ্বান—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দীর্ঘদিন ধরে কারা কোন নামে অনুদান সংগ্রহ ও আত্মসাৎ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হোক এবং দ্রুত সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।