নিজস্ব প্রতিনিধি:
নগর পরিকল্পনা শুধু রুপ সজ্জা নয়, এটি জীবন রক্ষার পরিকল্পনা ও বটে মন্তব্য করে নাগরিক কেন্দ্রের সভাপতি মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি এক বিবৃতিতে বলেন, পরিকল্পনার খাতায় যদি লাখো বস্তিবাসীর নাম না থাকে তবে সেটি কোন সামগ্রিক উন্নয়ন হতে পারে না। তথাকথিত উন্নত ঢাকা গড়ার স্বপ্ন যদি এই প্রান্তিক মানুষের চোখে জল এনে দেয় তবে সেই উন্নয়ন আসলে কাদের জন্য।
জনতা সংস্কৃতিক ফ্রন্টের সাধারন সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি বলেন, ঢাকার বস্তিবাসীরা অত্যন্ত মানবেতর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করেন। যেখানে উচ্ছেদের আতঙ্ক, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং মৌলিক সুবিধার তীব্র অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী। আয়ের বড় অংশ ঘরভাড়ায় চলে গেলে ও তারা নগর অর্থনীতিতে বিশেষ করে ঘরোয়া কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সঠিক পূর্ণ বাসন ও অন্তভূক্তি মূলক পরিকল্পনার অভাবে তারা দারিদ্র্যের চক্রে আটক আছেন। নগর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও তারা সামাজিক ও প্রশাসনিক অবহেলার শিকার।
তরুণ রাজনীতিবীদ মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি আরো বলেন, জীবনের ঝুঁকি আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করে বেঁচে থাকা হাজার হাজার মানুষ আজও এসব বস্তিতেই আশ্রয় নিতে বাধ্য। কিন্তু রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণের খাতায় যেন এই মানুষ গুলো নেই। তাদের জীবন, নিরাপত্তা কিংবা ভবিষ্যৎ যেন উপেক্ষিত ই থেকে যাচ্ছে।
নাগরিক কেন্দ্রের সভাপতি মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি বলেন, একটি মানবিক সমাজে স্থায়ী ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা অবশ্যই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। বস্তিবাসীদের জন্য স্বল্প মূল্যের ফ্ল্যাট, সহজ কিস্তিতে আবাসন প্রকল্প এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কমিউনিটি লিভিং ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি। এ ছাড়া বস্তির ভেতরে ফায়ার হাইড্রেন্ট, প্রশস্ত রাস্তা, নিয়মিত মনিটরিং এবং স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা ও জরুরি।
সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি বলেন, উন্নয়ন, নিরাপত্তা কিংবা স্যানিটেশন কোনো মানসম্মত পরিকল্পনার আওতায় কখনোই এদের আনা হয় নি। অথচ এই মানুষ গুলোই শহরের অর্থনীতির নেপথ্যের মূল চালিকাশক্তি। রিকশা চালক, গার্মেন্টস শ্রমিক, গৃহকর্মী, পথের দোকানি, নির্মাণ শ্রমিক, তাদের ঘামেই তো সচল থাকে ঢাকার অর্থনীতির চাকা। কিন্তু সংকট দেখা দিলে তাদের জন্য থাকে শুধু ত্রাণ আর সমবেদনা। মানবিক সমাধানের কোন বাস্তব পরিকল্পনা দেখা যায় না।
Leave a Reply