
মানজারুল ইসলাম:
রাজধানীর পূর্বাচল বিআরটিএ কার্যালয়ে লাইসেন্স প্রদানকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর পূর্বাচল কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন। দালাল ছাড়া ‘পাস’ নয়?ভুক্তভোগীদের দাবি, সাধারণ প্রার্থীরা সরাসরি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারছেন না। বরং দালালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ প্রদান করলে পরীক্ষায় পাস নিশ্চিত করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যারা মধ্যস্থতা বা ঘুষ দিতে রাজি হন না, তারা ভালো পরীক্ষা দিয়েও ফেল করছেন বছরের পর বছর।একাধিক প্রত্যক্ষ সূত্র জানায়, পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর মোবাইল এসএমএসে পাঠানো হয় এবং অর্থ লেনদেন করা হয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে। বিশেষ করে বিকাশ-এর মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। টাকা পরিশোধের পর দালালদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে তালিকা পৌঁছে যায় এবং ফলাফলে ‘পাস’ নিশ্চিত করা হয় বলে অভিযোগ।সরকারি অফিসে ‘দালাল রাজত্ব’কার্যালয় প্রাঙ্গণে সক্রিয় একটি শক্তিশালী দালাল চক্র পরীক্ষার্থীদের ঘিরে ধরে বলে অভিযোগ। লাইসেন্স পরীক্ষার জন্য আগত সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পরীক্ষা দিলেও ফলাফলে অজুহাত দেখিয়ে ফেল করানো হয়। পরে দালালরা যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে পাস করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য,ভালো পরীক্ষা দিয়েও পাশ আসে না। পরে দালালরা বলে নির্দিষ্ট টাকা দিলে ব্যবস্থা হবে। টাকা না দিলে বছরের পর বছর পরীক্ষা দিয়েও পাশ হয় না।
অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মের মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে একই কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করায় তার প্রভাব বিস্তার ও সিন্ডিকেট শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।সাধারণ মানুষ জিম্মি করে চলছে ,লাইসেন্স পেতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দীর্ঘ লাইন, বারবার পরীক্ষা, অযৌক্তিকভাবে ফেল দেখানো সব মিলিয়ে সাধারণ নাগরিকরা কার্যত জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।এভাবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান যদি ঘুষ ও দালাল নির্ভর হয়ে পড়ে, তাহলে তা গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য হুমকি। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহিতা ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।প্রশ্ন উঠেছে এত অভিযোগের পরও কেন কার্যকর তদন্ত হচ্ছে না? সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান মিলনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মন্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
Leave a Reply