বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন
Title :
চরলাপাং গ্রামে তাণ্ডব সাখাওয়াত পায়েল কি তবে প্রশাসনের চেয়েও শক্তিশালী? লাইসেন্স পেতে ঘুষের ফাঁদ? পূর্বাচল বিআরটিএ ঘিরে চাঞ্চল্য, আলোচনায় আলী আহসান লিমন পুলিশের কাজে অবৈধভাবে কেউ বাধা দিতে পারবে না- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি নির্বাচিত নদী মেপে ঘটনাস্থল নির্নয়, অবশেষে মামলা রুজুর নির্দেশ আসামি সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা বরিশালে আওয়ামী লীগের দুই বারের সাবেক এমপি তালুকদার মোঃ ইউনুসের জামিন মিরপুর-১ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘ফজর-আলম ও সবুজ’ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য…. ঘুষ-বাণিজ্যে অঢেল সম্পদ, সেবাগ্রহীতারা জিম্মি—দ্রুত তদন্তের দাবি মিরপুর ১০ ভাঙ্গা মার্কেট ফুটপাতে চাঁদাবাজদের তাণ্ডব টাকা না দিলেই মারধর-উচ্ছেদের হুমকি, থানায় লিখিত অভিযোগ তুরাগে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা..সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকসহ ৫ জন রক্তাক্ত আটক ২ উচ্ছেদ অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ: কয়েকদিন পরই ফের দখলে মিরপুরের ফুটপাত

মিরপুর-১ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘ফজর-আলম ও সবুজ’ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য…. ঘুষ-বাণিজ্যে অঢেল সম্পদ, সেবাগ্রহীতারা জিম্মি—দ্রুত তদন্তের দাবি

  • Update Time : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৭ Time View

সুমন খান:

রাজধানীর মিরপুর-১ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস-এ দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘুষ-বাণিজ্য, জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের দাবি ফজর আলী, আলম ও সবুজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা চক্রটি অফিসের কার্যক্রম কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছে; ফলে সাধারণ মানুষ দলিল রেজিস্ট্রেশনসহ জমি-সংক্রান্ত সেবা পেতে গিয়ে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির মুখে পড়ছেন।
কীভাবে চলছে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ
অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার বদলি হয়ে এলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ওই চক্রের প্রভাবের মুখে পড়েন। অফিসের কিছু কর্মচারী ও দালালচক্রের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট দলিল রেজিস্ট্রেশন, শ্রেণি পরিবর্তন, কম মূল্যে (লেস ভ্যালু) দলিল নিবন্ধন, সাজানো দাতা তৈরি ও এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায় করে থাকে।সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য,প্রতি দলিলে ন্যূনতম কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত ‘ম্যানেজমেন্ট’ খরচ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ফাইল ঝুলে থাকে, নানা অজুহাতে ফেরত দেওয়া হয় বা অকারণে বিলম্ব করা হয় অবসরপ্রাপ্তদেরও সক্রিয় দালালি
অভিযোগে আরও বলা হয়, অবসরপ্রাপ্ত বলেন কর্মচারী আলম অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থেকে দালালি তদারক করেন এবং বড় অংকের বায়না ও ভাগাভাগি নির্ধারণ করেন। এখানে যারা নাইট গাড়ি কাজ করছেন তারাই রাম রাজ্য কায়েম করেছেন বলে এমনটাই অভিযোগ ছিল পূর্ব সময়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের কেউ কেউ স্বল্প আয়ের চাকরিতে থেকেও অল্প সময়ে বহুতল ভবন, একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, জমি ও বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হয়েছেন। এসব সম্পদের উৎস ও আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য আছে কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।প্রশাসনিক নীরবতা কেন,সেবাগ্রহীতারা জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দুর্নীতি দমন সংস্থায় অভিযোগ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।একজন সাবেক সাবরেজিস্ট্রার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলিল লেখক ও নকল নবীশদের একটি অংশকে সঙ্গে নিয়ে অবৈধ সুবিধা বণ্টনের কাঠামো তৈরি হয়েছে। ভাঙার উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি বদলানো কঠিন। অনেক মনে করেন নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব,স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সম্পদের উৎস যাচাই।
ডিজিটাল মনিটরিং ও সিসিটিভি বাধ্যতামূলক করা, যাতে দালালচক্রের প্রবেশ সীমিত হয়।দলিল নিবন্ধনে সম্পূর্ণ অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু ও নগদ লেনদেন বন্ধ।নিয়মিত বদলি ও রোটেশন নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ।
সেবাগ্রহীতাদের জন্য হটলাইন ও অভিযোগ সেল সক্রিয় করা এবং দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।সেবাগ্রহীতাদের দাবি দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের ভাষ্য অফিসে গিয়ে যেন আর জিম্মি হতে না হয়, ন্যায্য সেবা পেতে ঘুষ না দিতে হয় এই নিশ্চয়তাই চাই। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এমন প্রত্যাশা সবার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025
Design By Raytahost
dailydhakaralo