
সুমন খান:
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর রাড্ডা এলাকার ভাঙ্গা মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে ব্যবসা করা ভাসমান ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। নির্বাচন-পরবর্তী সময় থেকে এ দৌরাত্ম্য আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, গুদারাঘাট বস্তি (মিরপুর-১) এলাকার সুপক (পিতা: শওকত আলী), মনির, জব্বার, ইমরান (পিতা: হাতেম আলী)সহ অজ্ঞাত আরও ১০/১৫ জন নিয়মিত দলবদ্ধভাবে এসে প্রতিটি দোকান থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। কেউ টাকা দিতে না চাইলে তাকে মারধর, ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং দোকান উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়।ব্যবসায়ীরা জানান, জুলাই-২০২৪ সালের পর থেকে চক্রটি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। সর্বশেষ গত ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্তরা আবারও এলাকায় এসে এক ব্যবসায়ীর কাছে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে যায়,টাকা না দিলে দোকান তুলে নিজেদের লোক বসানো হবে।এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক ব্যবসায়ী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ফুটপাতে ছোট দোকান বসিয়ে পরিবার চালাই। প্রতিদিন চাঁদা দিলে আমাদের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়, আবার না দিলে মারধরের শিকার হতে হয়।এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সম্মিলিতভাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর অধীন মিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, চাঁদাবাজদের গ্রেফতার এবং এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকাই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং নগর শৃঙ্খলা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর অভিযানই পারে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে।এখন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন মিরপুর-১০ এলাকার শতাধিক ভাসমান ব্যবসায়ী। তাদের একটাই দাবি,নিরাপদ পরিবেশে, ভয়ভীতি ছাড়া জীবিকা নির্বাহের অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
Leave a Reply