
কাকলি আক্তার:
রাজধানীর দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে ঠিকাদারী ব্যবসার জেরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মাজারের একটি অফিসে নিয়ে নৃশংস নির্যাতন ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোঃ নিজামুদ্দিন (৪২) অভিযোগ করেছেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে এসে তাকে তুলে নিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর করা হয় এবং সাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ এলাকায় গতকাল ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের সামনে বন্ধু ইউসুফ মিয়ার সঙ্গে অবস্থানকালে ৫/৬টি মোটরসাইকেলে করে একদল ব্যক্তি এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে হাসনাবাদ মাজারের দ্বিতীয় তলায় একটি অফিসে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, সেখানে তাকে প্লাস্টিকের ফিতা দিয়ে পা বেঁধে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে উল্টো করে ঝুলিয়ে বাঁশ ও কাঠের লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয় এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
চাঁদা দাবি ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর
নির্যাতনের একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত শাহিন (৪৬) তার বাসা থেকে তাৎক্ষণিক ৫০ লাখ টাকা এনে দিতে বলে এবং না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। পরে ৩টি নন-জুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং সেখানে ৫০ লাখ টাকা অঙ্ক বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।আহত অবস্থায় তাকে অটোরিকশায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে ছোট ভাইকে নিয়ে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।ভুক্তভোগী জানান, তিনি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর গাছ লাগানোর ঠিকাদার হিসেবে ২০২০ সাল থেকে হাসনাবাদ বড় মসজিদের ঢাল থেকে মীরেরবাগ হয়ে ঢাকা জুট মিলস পর্যন্ত নদীর পাড় দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সম্প্রতি একই কাজের দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হওয়ায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে তার দাবি।অভিযোগে শাহিন (৪৬), মোঃ ওসমান (২৮), কদর (৩০), ইউসুফ সরদার (৫০), মোঃ রানা (৩০), সৌরভ (৩০), মোঃ রনি (৫০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের সবার ঠিকানা হাসনাবাদ মোকামপাড়া, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ। এ ঘটনায় অপহরণ, অবৈধ আটক, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা, জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় ও গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের একাধিক ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার একটি সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে প্রকাশ্য থেকে অপহরণ, মাজারের অফিসে নৃশংস নির্যাতন এবং বিপুল অঙ্কের চাঁদা দাবির এই অভিযোগ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখন সবার নজর পুলিশের ।
Leave a Reply