শিহাব উদ্দিন:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নতুন সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে—সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূল করে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। জিরো টলারেন্স নীতি: কঠোর অবস্থানে সরকার
দলীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নতুন সরকার “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। অর্থাৎ—
কোন ব্যক্তি, সে যে দলেরই হোক না কেন
দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলে
তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে
একই সঙ্গে তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে
এই নীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নতুন সরকার।
দলীয় শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি
দলীয় নেতারা বলছেন, অতীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। এজন্য—
দলীয় পর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে
অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করা হবে
অপরাধ প্রমাণিত হলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে
এছাড়া প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বেও গুরুত্ব
সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমন ছাড়াও নতুন সরকার আরও যেসব খাতে গুরুত্ব দিচ্ছে:দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও শক্তিশালী করা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা
সরকার মনে করছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নও সম্ভব নয়।
সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ” গড়ার অঙ্গীকার
নতুন সরকারের লক্ষ্য একটি এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলা যেখানে—সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে
ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির ভয় ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে না,দলীয় নেতাদের ভাষায়, “সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানই হবে নতুন সরকারের মূল পরিচয়।
জনগণের প্রত্যাশা এখন নতুন সরকারের দিকে। দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ ও অনিয়মের পর মানুষ একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নিরাপদ রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটিই এখন সময়ের বড় প্রশ্ন।
Leave a Reply