
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের তায়কোয়ানডো অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সার্টিফিকেট বানিজ্য, অবৈধ একাডেমি পরিচালনা এবং অনুমোদনহীন বেল্ট গ্রেডিং টেস্টের মূল হোতা হিসেবে অভিযোগ উঠেছে শংকর কুমার রায়ের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের (বিটিএফ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানার অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত শংকর কুমার রায় দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়মের রাজত্ব কায়েম করে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।
কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন বা ফেডারেশনের স্বীকৃতি ছাড়াই শংকর কুমার রায় বছরের পর বছর ধরে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের চিলড্রেন গার্টেন স্কুলে এবং উত্তরা ১৩ নং সেক্টরে ‘বাংলাদেশ ইয়ং তায়কোয়ানডো একাডেমী ১, ২ ও ৩’ পরিচালনা করে আসছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালেই মূলত চলে তার সার্টিফিকেট বানিজ্য।
‘কুক্কিয়ন’ (বিশ্ব তায়কোয়ানডো সদর দপ্তর)এর নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশে একমাত্র জাতীয় ফেডারেশনই পুম ও ড্যান টেস্ট আয়োজন করার এখতিয়ার রাখে। অথচ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গত ৭ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে ‘বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো অ্যাসোসিয়েশন’ নামক একটি অবৈধ সংগঠনের ব্যানারে পুম/ড্যান বেল্ট গ্রেডিং টেস্টের আয়োজনে শতাধিক প্রশিক্ষনার্থীসহ অংশ নেয় শংকর কুমার রায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, এই অবৈধ গ্রেডিং টেস্টে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়ে দেড় গুণ বেশি টাকা আদায় করা হয়েছে। অন্তত ১০০ জনের নিকট থেকে কমপক্ষে ছয় লক্ষ টাকা বেশি আদায় করেছেন শংকর। শুধু তাই নয় টাকা নেওয়ার বিপরীতে কোনো মানি রিসিপ্ট বা প্রমাণপত্র দেওয়া হয়নি। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অভিভাবকরা জিম্মি হয়ে এই বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
জনশ্রুতি রয়েছে, বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের ‘ড্যান সার্টিফিকেট বানিজ্যের’ অন্যতম প্রধান পার্টনার এই শংকর কুমার রায়। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ যাবতকাল যত ড্যান টেস্ট নিয়েছেন, তার সিংহভাগ শিক্ষার্থী বা ‘ক্লায়েন্ট’ যোগান দিতেন শংকর। বিভিন্ন ক্লাবের খেলোয়াড়রা অর্থের বিনিময়ে নিশ্চিত ড্যান সার্টিফিকেট পাওয়ার আশায় তার দ্বারস্থ হতেন।
এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবী খেলোয়াড়দের বঞ্চিত করে টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের সনদ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের ড্যান বানিজ্য ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে তদন্ত পরিচালনা করছে, তাতেও শংকর কুমার রায়ের নাম অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ক্রীড়াপ্রেমী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন অনুমোদনহীন কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির প্রলোভনে পা না দেন। ‘বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো অ্যাসোসিয়েশন’ বা ‘বাংলাদেশ ইয়ং তায়কোয়ানডো একাডেমী’-এর মতো অবৈধ প্রতিষ্ঠানের কারসাজি থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মানের বৈধ সার্টিফিকেট এবং সঠিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র সরকারি স্বীকৃত বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
Leave a Reply