
সুমন খান:
জাতীয় ত্রয়োদশ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. আমিনুল হক ভোট কারচুপি, ফলাফল জালিয়াতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার আহ্বান জানান।
১৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) রাজধানীর পল্লবীতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের একটি অংশ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে তার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে ফলাফল পরিবর্তন করে ভোটের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি একটি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল শিট প্রদর্শন করেন। তার অভিযোগ, প্রথম গণনায় ধানের শীষ প্রতীক নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট পেলেও পরে সেই ফলাফল পরিবর্তন করে অন্য প্রতীকের ঘরে ভোট বসানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন একটি কেন্দ্রের ফলাফল এভাবে বদলে দেওয়া হলে, পুরো নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় দাঁড়ায়?
তিনি আরও দাবি করেন, তার কাছে ৩০টিরও বেশি কেন্দ্রের ফলাফলের কপি রয়েছে যেখানে কোনো পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর নেই। কিছু কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার নিজেরাই সিল ব্যবহার করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এসব অনিয়মের ভিডিও প্রমাণও তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আমিনুল হক বলেন, ভোটের আগের রাতে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের লোকজন বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে বৈঠক করেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সুষ্ঠু ভোট গণনা ব্যাহত হয়েছে। তার মতে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
উল্লেখ্য, এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষণা হন। অন্যদিকে আমিনুল হক পান ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ হাজার ৩৬১ ভোট। আমিনুল হকের দাবি, তার প্রতীকের ৩ হাজার ৭৪৪ ভোট বাতিল না হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি পুনরায় দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করতে হবে এবং ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ঢাকা-১৬ আসনে পুনঃনির্বাচন দিতে হবে।
ঢাকা-১৬ আসনের নির্বাচন নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগ এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
Leave a Reply