
মানজারুল ইসলাম :
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা মেট্রো-১, সার্কেল-১৩ কার্যালয়টি এখন সাধারণ মানুষের কাছে যেন এক ভয়ংকর ভোগান্তির নাম। অভিযোগ উঠেছে, এই কার্যালয়ে দালাল ছাড়া কোনো কাজই হয় না। আর এই দালালচক্রের নেপথ্যে রয়েছেন মোটরযান পরিদর্শক সৈয়দ রাসেল (বিসিএস নন-ক্যাডার)এমনটাই দাবি করছেন ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।ঘুষ ছাড়া সই নয়দালালই একমাত্র পথ একাধিক সূত্র জানায়, নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, নাম্বার প্লেট, ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন, এমনকি আর্থিক সহায়তা তহবিলসংক্রান্ত ফাইলেও ঘুষ ছাড়া কোনো অগ্রগতি হয় না। কর্মকর্তা সৈয়দ রাসেল সরাসরি কোনো আবেদনকারীকে কাজ করে না দিয়ে দালালের মাধ্যমেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করেন।একজন ভুক্তভোগী জানান,নিজে নিজে কাজ করতে গেলে দিনের পর দিন ঘোরানো হয়। ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হয় নানা অজুহাতে। কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে কাজ হয়ে যায়।শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট,প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিরপুর বিআরটিএ অফিসে একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা সম্পূর্ণভাবে সৈয়দ রাসেলের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত। অফিস প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করলেই দালালরা ঘিরে ধরে এবং তাদের মাধ্যমেই ফাইল কর্মকর্তার কাছে পৌঁছায়।অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ অর্থ ভাগাভাগির একটি নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে, যেখানে কর্মকর্তা ও দালালদের মধ্যে লেনদেন বাধ্যতামূলক।সাংবাদিকদের ভয়ভীতি আরও গুরুতর অভিযোগ হলো এই অনিয়ম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের দালালের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো হয়। সৈয়দ রাসেল নিজেকে ‘প্রভাবশালী কর্মকর্তা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।সেবা কেন্দ্র’ নয়, দুর্নীতির আখড়া সচেতন মহলের মতে, বিআরটিএ এখন আর সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে না, বরং এটি দুর্নীতির এক ভয়ংকর আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখানে এসে অসহায় হয়ে পড়ছে, বাকস্বাধীনতা ও ন্যায্য সেবা যেন হুমকির মুখে।
একজন নাগরিক মন্তব্য করেন,এখানে সেবা নিতে এসে মানুষ জিম্মি হয়ে যায়। টাকা না দিলে কাজ হয় না এটাই বাস্তবতা।দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি সৈয়দ রাসেলের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলো এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তের মাধ্যমে দালালচক্র ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশের নীরব সমর্থনের কারণেই এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে টিকে আছে। নানা কৌশলে ও পায়তারা করে দালালদের মাধ্যমে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।সরকারি দপ্তরে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে মিরপুর বিআরটিএ অফিসের কর্মকাণ্ড তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।
Leave a Reply