
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর উত্তরা বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) কার্যালয়ে দালালচক্রের প্রভাব যেন এখন রীতিমতো এক অঘোষিত সাম্রাজ্যে রূপ নিয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য”জীবন” নামের এক দালালকে ঘিরে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট, শুধু তাই নয় সকল কর্মকর্তা এই জীবনকে দিয়েই সবকিছু করিয়ে থাকে শুধু তাই নয় প্রত্যেকটা সেকশনে সন্ধার পরে টাকার ভাগাভাগি করেন কে কত কাজ করেছেন সে! নিয়ে সব হিসাব জীবনের কাছেই থাকে। এই সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন চলছে, আর এতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন উত্তরা বিআরটিএ সকল কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, উত্তরা বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক কাউসার আলম, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আবু বক্কার সিদ্দিক, রাজস্ব কর্মকর্তা সুনীল বিশ্বাস, সহকারী, পরিচালক (ইঞ্জি.) বশির উদ্দিন আহমেদ, প্রাইভেট রেজিস্ট্রেশন শাখার, লাভলু সিকদার, মোটরযান পরিদর্শক মোঃ রাশেদ মিলন—এসব কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে দালাল জীবন নামের এই ব্যক্তির। অভিযোগ, অফিসের প্রত্যেক সেকশনের আর্থিক হিসাব দিনের শেষে এই জীবনের হাত দিয়েই নিষ্পত্তি হয়।ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, উত্তরা বিআরটিএ অফিসে এখন সরাসরি কাজ করানো প্রায় অসম্ভব। আবেদনকারীরা যদি দালাল জীবনের মাধ্যমে না যান, তবে অফিসের কর্মীরা নানা অজুহাতে ফাইল ফেরত দেন, বিলম্ব ঘটান, বা অপ্রয়োজনীয় কাগজের দাবি করেন। অথচ জীবনের মাধ্যমে টাকা দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হয় কাজ।একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানানজীবন বহু বছর ধরে এখানে ঘুরে বেড়ায়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সে প্রায় সব রুমে ঢোকে, ফাইল নিয়ে আলোচনা করে, টাকা লেনদেন করে। সবাই জানে, তবুও কেউ কিছু বলে না। কারণ অনেকের ভাগ আছে এই টাকার।
এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সরকার ডিজিটাল সেবা চালু করলেও এই দালালচক্রের কারণে আমরা এখনো প্রতারিত হচ্ছি। কর্মকর্তারা জানেন, কিন্তু ব্যবস্থা নেন না, কারণ এই দালালই তাদের আয়ের প্রধান মাধ্যম।অভিযোগ আরও রয়েছে, জীবন শুধু মালিকানা বদলী নয়—গাড়ির ট্যাক্স, ফিটনেস, লাইসেন্স, এমনকি হারানো কাগজপত্র পুনরায় ইস্যু করাও তার নিয়ন্ত্রণে।প্রশাসনের চোখের সামনে এই দুর্নীতির রাজত্ব চললেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্তের দাবি উঠেছে সরকারি পর্যায়ে, যাতে এই দালালচক্রের শিকড় উৎখাত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যায়।
অবিলম্বে দালাল “জীবন” ও তার পৃষ্ঠপোষক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত।উত্তরা বিআরটিএতে সরাসরি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন।অফিসে দালাল প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা ও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা।উত্তরা বিআরটিএ অফিস আজ যেন এক দালালতন্ত্রের দুর্গে পরিণত হয়েছে—যেখানে আইন, শৃঙ্খলা ও নাগরিক অধিকার কেবলই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। যদি এখনই প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এই দালালচক্রের থাবা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে জনগণের জন্য।
Leave a Reply