
রাজধানীর মিরপুর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে মোবাইল কোর্টের অভিযানে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) বিআরটিএ কার্যালয়ে পরিচালিত এ অভিযানে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।মোবাইল কোর্ট আদালত-৬-এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মো. শাহাবুদ্দিন (৫৮)-কে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মো. মিজান (৪৩) এবং মো. লিটন (৩৬)-কে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।বিআরটিএতে দালালচক্র ঠেকাতে অভিযান,বিআরটিএ কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দালালচক্রের তৎপরতা, সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ কার্যালয় ও এর আশপাশে নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে দালালদের খপ্পরে পড়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান বা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় বিআরটিএ কার্যালয়ে শৃঙ্খলা ফেরানোর ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা।কঠোর হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত,সোমবারের অভিযানে একসঙ্গে তিনজনকে আটক এবং তিনজনকেই কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় বিআরটিএ কার্যালয়ে দালাল ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নিয়মিত অভিযান ও দৃশ্যমান শাস্তি কার্যকর করা গেলে বিআরটিএকেন্দ্রিক দালালচক্রের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।তবে আটক ব্যক্তিরা ঠিক কী ধরনের অনিয়ম বা অপরাধে জড়িত ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোন নির্দিষ্ট আইনের কোন ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে,এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা সম্ভব হবে। গতকাল সোমবারের এই অভিযানকে বিআরটিএ কার্যালয়ে অনিয়ম ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চলমান কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।