
শাহিন আখন বোরহানউদ্দিন ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের আলোচিত সেই ‘জ্বীন-ভূত’ বা জুয়া-মাদকের ভয়াল থাবা এবার ছড়িয়ে পড়েছে খোদ বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে। কথিত এই অদৃশ্য ‘জ্বীন-ভূতের’ (অনলাইন জুয়া, আইপিএল বেটিং ও মাদকের সিন্ডিকেট) খপ্পরে পড়ে একের পর এক নিরীহ পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে বসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর যাবৎ কাচিয়া ইউনিয়নে এই চক্রটি এককভাবে রাজত্ব করে আসছিল। সেখানে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর, এখন তাদের মূল নজর পড়েছে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই ওয়ার্ডে চক্রটি তাদের নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে বিস্তার করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত এই ‘জ্বীন-ভূতের’ আড়ালে চলছে সর্বনাশা জুয়া, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এর পাশাপাশি পৌর এলাকার উঠতি বয়সের স্কুল-কলেজগামী ছেলেরা দ্রুত বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। ফলে একদিকে যেমন সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকায় আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে ‘কিশোর গ্যাং’-এর মতো ভয়ঙ্কর অপরাধ।
স্থানীয় ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, এই চক্রের খপ্পরে পড়ে এলাকার অনেক পরিবারের উঠতি বয়সের ছেলেরা ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র, মা-বোনের গহনা, এমনকি গবাদিপশু বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে অনেক নিরীহ পরিবার আজ দেনার দায়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। টাকা না পেলেই কিশোরেরা জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই ও মাদক কারবারের সাথে।
পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের সচেতন নাগরিক ও অভিভাবক মহল এই ‘জ্বীন-ভূত’ নামক অপরাধী চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে কিশোর গ্যাং কালচার ও সামাজিক অবক্ষয় রুখতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং নিয়মিত অভিযানের আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।