
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিদেশি পিস্তল, ব্যবহৃত ও তাজা গুলিসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সুযোগ বুঝে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে,গ্রেফতারকৃতের নাম মো. কাওছার ভুইয়া ওরফে শান্ত ওরফে এসবি (২৪)।মিরপুর মডেল থানা সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে নিয়মিত টহলরত পুলিশ সদস্যরা মেট্রোরেলের পিলার নম্বর ২৫২ ও ২৫৩-এর মধ্যবর্তী চৌরঙ্গী মার্কেটের দক্ষিণ পাশ থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কাওছার ভুইয়াকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ফায়ার্ড কার্তুজ, দুটি তাজা কার্তুজ এবং একটি ফায়ার্ড বুলেট সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলার শিকার সাইফুল ইসলাম সিজু (৪০)-কে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভিকটিমের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে ভিকটিমের আস্থা অর্জনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে একসঙ্গে অংশ নিতে থাকেন।
ঘটনার দিনও হামলার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিকটিমের পাশে বসে চা পান করেন। একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের সহায়তায় আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সাইফুল ইসলাম সিজুকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।তদন্তে উঠে এসেছে, মিরপুর-১০ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা বৃহত্তর অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত কাওছার ভুইয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও অস্ত্র আইনের একটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ফলে তার অপরাধমূলক সম্পৃক্ততার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
মিরপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িত অন্যান্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে একাধিক টিম কাজ করছে। পাশাপাশি হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস, সহযোগীদের পরিচয় এবং ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জনবহুল মিরপুর-১০ এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অপরাধ দমনে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।