
সুমন খান:
রাজধানীর উত্তরা থেকে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নির্যাতনের মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগ। একই সঙ্গে অপহরণকারী চক্রের মাস্টারমাইন্ডসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ৩ নম্বর সেক্টরের জসিমউদ্দিন এলাকায় ব্যবসায়ী আজিবুর রহমান (৫০) অপহরণের শিকার হন। একদল দুষ্কৃতিকারী তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে এবং প্রথমে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।অপহরণের পর ভিকটিমকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপহরণকারীরা তাকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থানান্তর করে এবং মুক্তিপণের টাকা আদায়ে চাপ বাড়াতে থাকে।পরিবারের সদস্যদের কাছে ভিডিও কলে ভিকটিমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে অপহরণকারীরা ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে মুক্তিপণ না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিলেও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়।প্রাণ বাঁচানোর আশায় ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা তার ভাগিনা জহুরুল ইসলামের মাধ্যমে অপহরণকারী চক্রের মূলহোতার দেওয়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে ২৫ লাখ টাকা জমা দেন। কিন্তু মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারীরা ব্যবসায়ীকে মুক্তি না দিয়ে আরও অর্থ আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এবং নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভুক্তভোগীর পরিবার উত্তরা পশ্চিম থানার শরণাপন্ন হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ আভিযানিক দল মাঠে নামে। অপহরণকারীরা পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে গ্রেফতার এড়াতে অপহৃত ব্যবসায়ীকে নিয়ে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে।তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও ধারাবাহিক, অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ অপহরণকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। অবশেষে দক্ষিণখান থানার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত রাতে অপহৃত ব্যবসায়ীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।এ সময় অপহরণকারী চক্রের কথিত মাস্টারমাইন্ড মো. সজিব মিয়া (২৯) এবং তার সহযোগী আব্দুল আলিম বাবু (৩০), ময়নুদ্দিন ও মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার,এদিকে একই দিনে উত্তরা পশ্চিম থানার অপর একটি আভিযানিক দল উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের রোড নং-৯/ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জামাল (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে ১৩৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত জামালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।পুলিশের বক্তব্য,উত্তরা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।