
রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন লালকুঠি এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও অর্থ-স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হোটেল ম্যানেজার মো. শরিফুল ইসলাম রনি বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে লালকুঠি মাজার রোডে অবস্থিত মিরপুর স্পেশালিস্ট হাসপাতালের ৮ম তলায় পরিচালিত ‘হোটেল ঈগল’-এ একদল ব্যক্তি লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবেশ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে হোটেলে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়।বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রথমে হোটেলের দরজা ও তালা ভাঙচুর করে প্রায় ৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজন লোহার রড দিয়ে শরিফুল ইসলাম রনির ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার কপালের বাম পাশে গুরুতর আঘাত লাগে এবং রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় অন্য অভিযুক্তরা তাকে কিল-ঘুষি ও মারধর করে আহত করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় এক আসামি তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এছাড়া তার পকেটে থাকা নগদ ৫৫ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।হোটেলের সুপারভাইজার মো. ফেরদৌস শরিফুল ইসলামকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তার পকেটে থাকা ৬৫ হাজার ৩৩২ টাকা নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, হামলার পর অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের সহায়তায় আহতরা ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দুইজন সাক্ষীর নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটি দেখেছেন ও জানেন বলে দাবি করা হয়েছে।
চিকিৎসা গ্রহণ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শের পর ভুক্তভোগীরা দারুস সালাম থানায় এসে মামলা দায়ের করেন। এজাহারের সঙ্গে চিকিৎসা সনদপত্র এবং আহতদের ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে।তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।