
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার গাভা এলাকায় প্রেম করে বিয়ে, গোপনে তালাক, তালাকের তথ্য আড়াল করে দীর্ঘদিন দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখা এবং পরবর্তীতে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত রাসেদ স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকার ছেলে হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন তিনি ও রাসেদ। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করেন এবং সামাজিকভাবেও নিজেদের দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, কয়েক মাস আগেই তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, তালাকের বিষয়টি তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয় এবং তালাক কার্যকর হওয়ার পরও রাসেদ স্বামীর মতো আচরণ করে সম্পর্ক চালিয়ে যান।অভিযোগ রয়েছে, কাজীর পরামর্শে তালাকের বিষয়টি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। সেই সময়ের মধ্যে রাসেদ একাধিকবার ভুক্তভোগীকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যান এবং হোটেলে অবস্থান করেন। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্কও বজায় থাকে। অথচ ভুক্তভোগী জানতেন না যে আইনগতভাবে তাকে ইতোমধ্যে তালাক দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে যখন কয়েকদিন আগে তার মোবাইল ফোনে একটি তালাকনামার কপি পাঠানো হয়। হঠাৎ এমন তথ্য পেয়ে হতবাক হয়ে তিনি সত্যতা যাচাই করতে রাসেদের বাড়িতে যান এবং স্ত্রী হিসেবে নিজের অধিকার দাবি করেন। কিন্তু সেখানে তাকে অস্বীকার করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু রাসেদই নন, তার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও ওই তরুণীকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে মানসিক আঘাত ও অপমান সহ্য করতে না পেরে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন ওই তরুণী। পরে স্থানীয়রা তাকে সেবা-শুশ্রূষা দেন।এদিকে ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি দাবি করেছেন, অভিযোগ ধামাচাপা দিতে এবং প্রশাসনিক চাপ এড়াতে বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির দ্বারস্থ হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তালাক কার্যকর হওয়ার পরও বিষয়টি গোপন রেখে একজন নারীকে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে রাখা হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং নারীর অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, একজন নারীকে বিয়ের সম্পর্কের বিশ্বাসে রেখে তালাকের তথ্য গোপন করা হলে তা শুধু নৈতিক নয়, সামাজিকভাবেও গুরুবানারীপাড়ায় গোপন তালাক কাণ্ড: প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষিকার ছেলেতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।ভুক্তভোগী তরুণী প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার, বৈবাহিক অধিকার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার প্রশ্ন যদি তালাক হয়ে থাকে, তবে কেন তাকে অন্ধকারে রেখে দীর্ঘদিন দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখা হলো?এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রভাবশালী কোনো মহলের প্রভাব নয়, বরং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।