
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার নান্দুহার গ্রামে পরিচালিত একটি সমিতিকে কেন্দ্র করে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সমিতির পরিচালনাকারী শাহ আলমের বিরুদ্ধে এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা সংগ্রহ করে তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে মাসিক কিস্তির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতেন। তিনি সদস্যদের আশ্বাস দেন যে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে পাঁচ বছর জমা রাখলে মেয়াদ শেষে জমাকৃত অর্থের দ্বিগুণ ফেরত দেওয়া হবে। এই লোভনীয় প্রস্তাবে আকৃষ্ট হয়ে গ্রামের বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ওই সমিতিতে জমা করেন।তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও অধিকাংশ সদস্য তাদের পাওনা টাকা ফেরত পাননি। বরং টাকা ফেরতের জন্য বারবার যোগাযোগ করেও তারা সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাচ্ছেন না। অনেক ভুক্তভোগী দাবি করেন, পাওনা টাকার কথা বলতে গেলে নানা অজুহাত দেখানো হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে হুমকি-ধামকিরও শিকার হতে হয়।ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানান, সমিতিতে জমাকৃত অর্থের একটি বড় অংশ অনিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শাহ আলম জুয়াসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় সমিতির অর্থ সংকটে পড়ে এবং বর্তমানে সদস্যদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ রয়েছে, শাহ আলমের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কথা এলাকায় আলোচনা হয়েছে। একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, সমিতির আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং সদস্যদের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ করা হয়েছে।এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেক পরিবার তাদের সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ নিরীক্ষা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে শাহ আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি।