
রাজধানীর উত্তরখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমানকে ঘিরে হঠাৎ করেই সামাজিক,যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় একাধিক সূত্র, সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তরখান থানায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি হাবিবুর রহমান এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনে একের পর এক কঠোর অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের সুবিধাভোগী অসাধু চক্র।স্থানীয়দের অভিযোগ,বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠী ও তাদের মদদদাতারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এখন পরিকল্পিতভাবে ওসিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, মনগড়া অভিযোগ তৈরি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে একজন সৎ কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তারা।
যোগদানের পর থেকেই কঠোর অভিযান,উত্তরখান থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওসি হাবিবুর রহমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। থানা সূত্রে জানা যায়, তার নেতৃত্বে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্ট তামিল, সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার কার্যক্রম জোরদার করা হয়।বিশেষ করে রাতভর টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে নজরদারি এবং চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে অপরাধপ্রবণ এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে জানান স্থানীয়রা। একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আগে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের তৎপরতা ছিল প্রকাশ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।অসাধু মহলের অস্বস্তি, শুরু অপপ্রচার
অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসা কিছু অসাধু ব্যক্তি ও সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট পুলিশের চলমান অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও নজরদারি বাড়ার পর থেকেই একটি চক্র ওসি হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াতে সক্রিয় হয়ে ওঠে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,যখনই কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন, তখনই একটি গোষ্ঠী তাকে টার্গেট করে। উত্তরখান থানার বর্তমান পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়।অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে পুলিশের চলমান অভিযান বাধাগ্রস্ত হয়।অপরাধী যত শক্তিশালী হোক, ছাড় নয়’এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরখান থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন,আমি আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি। অপরাধী যত বড় ক্ষমতাশালী বা প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি আরও বলেন,অপপ্রচার চালিয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। তবে এসব দেখে আমরা পিছিয়ে যাব না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।স্থানীয়দের আস্থা বেড়েছে পুলিশের ওপর,উত্তরখান এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান সময়ে এলাকায় পুলিশের তৎপরতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। নিয়মিত টহল ও অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,ওসি হাবিবুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর এলাকায় অপরাধ অনেক কমেছে। এখন রাতেও মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে। যারা অপরাধ করতো, তারাই এখন অপপ্রচার চালাচ্ছে।আরেক ব্যবসায়ী বলেন,চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে আগে ব্যবসা করা কঠিন ছিল। এখন পুলিশ কঠোর হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সুশীল সমাজের ব্যক্তিত্ব মনে করেন ,নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো একটি পুরোনো কৌশল। এর মাধ্যমে একদিকে কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করা হয়, অন্যদিকে অপরাধচক্র নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ খোঁজে।তাদের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। তবে ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।জনগণের প্রত্যাশা অভিযান চলুক,স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে উত্তরখান থানার চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে একজন সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে ঘিরে অপপ্রচারের নেপথ্যে কারা রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।সচেতন মহলের ভাষ্য,অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলে অপপ্রচার হবেই। কিন্তু রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে সৎ কর্মকর্তাদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।