
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ডিএমপির মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। অভিযানে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চুরি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে)২০২৬ দিন ও রাতব্যাপী মিরপুর মডেল থানাধীন বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে থানা পুলিশের একাধিক টিম অংশ নেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক অপরাধী পালানোর চেষ্টা করলেও অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুর এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক বেচাকেনা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়ার পরই বিশেষ নজরদারি শুরু করে থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়।গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— হৃদয় হোসেন (২১), হাসনাইন আহমেদ শান্ত (২২), মনির হোসেন (৩৯), উমর ফারুক (৪২), মাসুদ রানা (৩৬), খোকন (৪২), ইদ্রিস (৪০), অলিউল্লাহ (২২), মামুন (২২), জুয়েল (২০), জাহিদুল (২০), রিপন (৩০), কামরুল হাসান (২০), সুমন (২১), স্বপন দাস (৩২), মাসুম (২৬), সোহানুর রহমান সোহান (২৬), জুনায়েদ সাইফ (২২), আল ফাতিন ওরফে সামি (২৭), ইয়াসিন আরাফাত (২১), ইফাদুল কবির (২১), জিসান হোসেন আলিফ (২৩), দেব জ্যোতি (২৮), আরিফ হাসান (৩২), তুহিন (৩২), নূর ফরাজী (২৮), শাকিল (২৫), মেহেদী হাসান অনিক (২৭), ওমর বিন হারুন (৩০), জহির (৪৩), মারুফ আলম (১৮), শাহীন আলম (৩০), আমিরুল ইসলাম (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬), হাসান (৩০), হেলাল (৩৩), মামুন (৪৫), রাজন (৩০), শাহেন (২৬), রাকিব (১৯), শাহজামান জুয়েল (৩২), ফারহানা আখতার স্মৃতি ও মুসা।মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) , হাফিজুর রহমান বলেন, মিরপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক, ছিনতাই, চুরি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। জনগণের সহযোগিতা নিয়ে অপরাধমুক্ত মিরপুর গড়ে তুলতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।তিনি আরও বলেন,সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ প্রবণতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যারা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে পুলিশের এমন অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে এলাকায় অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারবে।পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।