
মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরের কেশবপুরে পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাফসহ এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে উত্তেজিত জনতা। মসজিদের মাইকে "পুলিশের পিটুনিতে আসামি নিহত" হওয়ার গুজব ছড়িয়ে এই নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়। হামলায় এক উপ-পুলিশ পরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর জখম হয়েছেন।
গত বুধবার গভীর রাতে উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামে সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে অভিযানে যায় পুলিশ। তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীরকে আটকের পর হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে আসার সময় বাধার সম্মুখীন হয় পুলিশ। আসামির ভাই আল-আমিন নিকটস্থ মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন যে, পুলিশ তার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।
এই মিথ্যা ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে লাঠিসোটা নিয়ে কয়েকশ মানুষ পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। উত্তেজিত জনতার বেধড়ক পিটুনিতে রক্তাক্ত হন এসআই আসমত আলী, কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও হাবিবুল্লাহ। এই সুযোগে হামলাকারীরা হ্যান্ডকাফসহ আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে দ্রুত কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে কনস্টেবল হাবিবুল্লাহর আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কেশবপুর থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হিজলডাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া আসামি ও হামলার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন খান