
সুমন খান:
পিরোজপুরের নেছারাবাদ স্বরুপকাঠির উপজেলার নান্দুহার বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে সৃষ্ট সামান্য বিরোধের জেরে দুই দফায় সংঘটিত এ হামলায় একাধিক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৮ লাখ টাকারও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।এ ঘটনায় বাজার কমিটির সম্পাদক মোঃ শওকত ওসমান (৫৩) বাদী হয়ে নেছারাবাদ থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেছেন।তুচ্ছ বিরোধ থেকে সহিংসতা,এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ২টি মোটরসাইকেলে করে ৪ জন যুবক নান্দুহার বাজারে প্রবেশ করে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজাতে থাকে। এতে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী আপত্তি জানালে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই যুবকরা মোবাইল ফোনে তাদের সহযোগীদের খবর দেয়। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ২৫-৩০টি মোটরসাইকেলে করে প্রায় ৪০-৫০ জন বহিরাগত যুবক ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। তারা কয়েকজন ব্যবসায়ীকে মারধর করে হুমকি দিয়ে চলে যায়।প্রথম দিনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন ২৫ মার্চ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:৪৫ মিনিটে একই দল আরও সংঘবদ্ধ হয়ে পুনরায় বাজারে হামলা চালায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে বাজারে ঢুকে দোকানে দোকানে তাণ্ডব চালায়। তারা ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারধর করে, এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন।বিশেষ করে ১ ও ২ নম্বর সাক্ষীকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়, যা ঘটনায় ভয়াবহতার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।হামলাকারীরা শুধু মারধরেই থেমে থাকেনি, তারা পরিকল্পিতভাবে লুটপাট চালায় একটি মুদি দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে ৬০,৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়,এক নারী ব্যবসায়ীর ৬টি দোকান ভাঙচুর করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয় অন্যান্য দোকানে হামলা চালিয়ে আরও প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয় সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ লাখ টাকারও বেশি।আতঙ্কিত ব্যবসায়ী, ক্ষোভে ফুঁসছে বাজার,হামলার সময় বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানদাররা জীবন বাঁচাতে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরও হুমকি দিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ,হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বখাটে ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত,তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তোয়াক্কা করে না,বাজারে নিরাপত্তার চরম ঘাটতি রয়েছ,ঘটনার পর বাজার কমিটির সম্পাদক শওকত ওসমান স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এজাহার দায়ের করেন। এতে ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।তিনি বলেন,এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। আমরা ব্যবসায়ীরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসের ইঙ্গিত?এই ঘটনার বিশ্লেষণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে,একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্রুত বড় বাহিনী সংগঠিত হওয়া পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়,দ্বিতীয় দিনের হামলা ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক,হামলাকারীরা শুধু মারধর নয়, বরং লুটপাট ও আর্থিক ক্ষতিসাধনেও জড়িত,এতে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কেবল তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ফল নয়, বরং এলাকায় সংগঠিত সন্ত্রাসী চক্র সক্রিয় রয়েছে।নান্দুহার বাজারের এই হামলা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।এখন দেখার বিষয়,প্রশাসন কত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়
এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কতটা ন্যায়বিচার পান
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন খান