
সোহাগ হাওলাদার:
রাজধানীর মিরপুর ১২,১১,৬,৭ পল্লবী, রূপনগর ও আশপাশের এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, দখল, গুলি, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং তাণ্ডবের মাধ্যমে এলাকাবাসীর ঘুম হারাম করা ‘ভইরা দে গ্রুপ’-এর প্রধান আশিক অবশেষে সেনাবাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে।
আজ শুক্রবার ২৫ এপ্রিল রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে, কাফরুল থানাধীন সেকশন-১৩, বি - ব্লকের একটি ফ্ল্যাট বাসায় আশিকের অবস্থান রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস টিম আশিককে ঘিরে ফেলে। পালানোর চেষ্টায় আশিক ভবনের সাততলা থেকে পাইপ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু সেনা সদস্যদের তৎপরতায় শেষরক্ষা হয়নি আশিকের। ছাদ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার কারণে গুরুতর আহত হয় আশিক। বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ররেছে আশিক।
গত ৫ আগস্ট এর পর জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ছায়াতলে বেড়ে ওঠা এক কিশোর গ্যাং নেতার প্রতিচ্ছবি এই আশিক। কখনো ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে, আবার কখনো পল্লবী ও ভাষানটেকের সন্ত্রাসীদের হয়ে সে এলাকায় অস্ত্রের মুখে রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল আশিক। আশিক বাহিনীর "ভইরা দে গ্রুপের" কাছে ছিল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, মহল্লায় যে কোন ছোট খাটো বিষয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র বের করে বিভিন্ন মানুষকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, কুপিয়ে জখম, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মারধর করে এলাকার সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে রেখেছিল আশিক।
আশিকের পিতা খালেকুজ্জামান জীবন ছিলেন যুবলীগ নেতা, যার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা আশিক এখন পুরো মিরপুর,পল্লবী,রূপনগর অঞ্চলের ভয়াবহ আতঙ্ক ।
আশিকের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সাধারন জনগণ, গরিব, অসহায় ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নামাজ পড়ে সেনাবাহিনীর জন্য দোয়া করেন। এবং সন্ত্রাসী আশিকের কঠিন শাস্তির দাবি করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন খান